Mahindra Vision SXT: মহিন্দ্রার নতুন চমক ভিশন SXT, পিকআপ-স্টাইল SUV আনার ইঙ্গিত দিল সংস্থাটি

নিউজ ডেস্ক: মহিন্দ্রা স্বাধীনতা দিবসের বিশেষ অনুষ্ঠানে উন্মোচন করল এক নতুন চমক—ভিশন SXT কনসেপ্ট। ভারতীয় বাজারে প্রথমবারের মতো এক ভিন্ন ধাঁচের লাইফস্টাইল পিকআপ-স্টাইল SUV আনার ইঙ্গিত দিল সংস্থাটি। নতুন ভিশন T কনসেপ্টকে ভিত্তি করে তৈরি এই গাড়িটি আবারও প্রমাণ করল, থার পরিবারের অফ-রোড ডিএনএ-ই মহিন্দ্রার গর্ব এবং সেই ঐতিহ্য বজায় রেখেই এবার এক সাহসী নতুন বডি-স্টাইল নিয়ে হাজির হয়েছে ভিশন SXT। যদিও এটি এখনও একটি কনসেপ্ট মডেল, তবুও মহিন্দ্রার পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২৭ সালের পর এর প্রোডাকশন ভার্সন রাস্তায় নামতে পারে। আর তাই এখন থেকেই গাড়িপ্রেমীদের কাছে এটি হয়ে উঠেছে আলোচনার অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু।

Whatsapp Join

ভিশন SXT-এর ডিজাইনে ভিশন T-এর অনেক বৈশিষ্ট্য বহন করা হলেও পেছনের অংশে পিকআপের ধাঁচে এক ভিন্ন রূপ ফুটে উঠেছে। প্রচলিত কার্গো বেডের বদলে এখানে রাখা হয়েছে ছোট আকারের খোলা ডেক, যার সঙ্গে যুক্ত রয়েছে রোল বার এবং স্লিম টেলগেট প্যানেল। এই বিশেষ নকশা গাড়িটিকে দিয়েছে এক রোমাঞ্চকর ও অ্যাডভেঞ্চারস লাইফস্টাইলের আবেদন। পিছনে স্ট্র্যাপ করা স্পেয়ার হুইলগুলো গাড়ির অফ-রোড চরিত্রকে আরও জোরালো করে তোলে, যদিও এগুলো মূলত শো-পিস হিসেবেই ডিজাইন করা হয়েছে, স্ট্যান্ডার্ড ইকুইপমেন্ট নয়।

গাড়ির সামনের অংশে রয়েছে একেবারে ভিন্নধর্মী আভা। আয়তাকার গ্রিলের ভেতরে গ্লাস ডিটেলিং, তার দুই পাশে বসানো প্রোজেক্টর-স্টাইল হেডল্যাম্প এবং স্তরে স্তরে সাজানো LED ইউনিট—সব মিলিয়ে সামনে থেকেই গাড়িটি যেন শক্তি ও আধুনিকতার মেলবন্ধন ঘটিয়েছে। নিচে পেশিবহুল বাম্পারের সঙ্গে সিলভার স্কিড প্লেট যুক্ত হয়ে সেই শক্ত ভাবটিকে আরও দৃঢ় করেছে।

ভিশন SXT-এর পাশের দিকেও শক্তপোক্ত নকশা চোখে পড়ে। স্কোয়ার্ড হুইল আর্চ, গাঢ় ক্ল্যাডিং এবং এক্সপোজড হার্ডওয়্যার—যেমন হিঞ্জ বা বোনেট ল্যাচ—সবই এই গাড়িকে দিয়েছে ইউটিলিটি-ফার্স্ট এক ব্যক্তিত্ব। ব্লকি অ্যালয় হুইলের চারপাশে মোটা অল-টেরেইন টায়ার গাড়িটির আউটডোরস মনোভাবকে আরও প্রকট করেছে।

পেছনের দিকে আসলে একেবারেই নতুন এক পরিচয় পাওয়া যায়। চিকন LED টেললাইট দুটি একটি কালো স্ট্রিপ দ্বারা সংযুক্ত, যার মধ্যে স্পষ্টভাবে লেখা ‘Vision SXT’। নীচের ভারী বাম্পার, স্কিড প্লেট, ছাদে বসানো স্টপ ল্যাম্প এবং অনন্য ফ্ল্যাটবেড ডিজাইন—সব মিলিয়ে এটি মহিন্দ্রার কনসেপ্ট গাড়ির ভাণ্ডারে একেবারেই আলাদা মাত্রা যোগ করেছে।

ভেতরের দিকটিও ভিশন T-এর প্রতিফলন বহন করছে। কেবিনে টেক-ফরোয়ার্ড এবং মিনিমালিস্টিক এক বিন্যাস লক্ষ্য করা যায়। পুরো ডিজিটাল ইন্সট্রুমেন্ট ক্লাস্টার, বড় আকারের পোর্ট্রেট টাচস্ক্রিন, যেখানে চলবে মহিন্দ্রার নতুন NU_UX ইন্টারফেস, আর নতুন ডিজাইনের তিন-স্পোক স্টিয়ারিং হুইল—সব মিলিয়ে ভেতরের পরিবেশ একেবারে ভবিষ্যতমুখী। ড্যাশবোর্ড ও সেন্টার কনসোল অবশ্য প্রয়োজনীয় ফাংশনের জন্য কিছু ফিজিক্যাল কন্ট্রোল ধরে রেখেছে, যাতে ব্যবহারিক সুবিধা অক্ষুণ্ণ থাকে। প্যানোরামিক সানরুফ এবং শক্তপোক্ত ম্যাটেরিয়াল ব্যবহার কেবিনকে দিয়েছে একদিকে প্রিমিয়াম অনুভূতি, অন্যদিকে দীর্ঘস্থায়ী টেকসই রূপ। বসার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে পাঁচজন যাত্রীর জন্য।

গাড়িটি দাঁড়িয়ে আছে মহিন্দ্রার NU_IQ মডুলার মনোকক আর্কিটেকচারের ওপর। এই প্ল্যাটফর্ম ৩,৯৯০ মিলিমিটার থেকে ৪,৩২০ মিলিমিটার দৈর্ঘ্যের SUV বহন করতে সক্ষম। ২,৬৬৫ মিলিমিটার হুইলবেসে মহিন্দ্রা দাবি করছে সেগমেন্টে শ্রেষ্ঠ ইন্টেরিয়র স্পেস এবং মাত্র ১০.৩ মিটার টার্নিং রেডিয়াস। অর্থাৎ শহরের ব্যস্ত রাস্তায়ও এটি সহজে ঘোরানো সম্ভব হবে।

প্ল্যাটফর্মের অন্যতম শক্তি হল এর বহুমুখী পাওয়ারট্রেন সাপোর্ট। আইসিই থেকে হাইব্রিড এবং ইভি—সব ধরনের পাওয়ারট্রেনই এখানে সম্ভব। সামনের চাকায় বা চার চাকার ড্রাইভ—উভয় ধরনের বিকল্পই রাখা হয়েছে। মহিন্দ্রা নিশ্চিত করেছে, ইভি ভ্যারিয়েন্টে থাকবে LPF ব্যাটারি প্যাক, যা আসন্ন BE 6 এবং XEV 9e মডেলের সঙ্গে ভাগাভাগি করা হবে।

অফ-রোডপ্রেমীদের জন্য রয়েছে আরও বিশেষ কিছু চমক। সেগমেন্টের তুলনায় উন্নত এপ্রোচ, ডিপার্চার এবং ব্রেকওভার অ্যাঙ্গেল থাকছে গাড়িটিতে, যা পাহাড়ি বা দুর্গম পথে চালানোর সময় বাড়তি সুবিধা দেবে। সঙ্গে থাকছে পেন্টা-লিঙ্ক রিয়ার সাসপেনশন, যা এই শ্রেণির গাড়ির মধ্যে প্রথমবার দেখা যাবে। গ্রাউন্ড ক্লিয়ারেন্সও সেগমেন্টের সেরা হবে বলে জানিয়েছে সংস্থা। শুধু তাই নয়, যখন এর প্রোডাকশন ভার্সন বাজারে আসবে, তখন এটি ৫-স্টার সেফটি রেটিং অর্জন করবে, এমন লক্ষ্যও স্থির করেছে মহিন্দ্রা।

সব মিলিয়ে ভিশন SXT এখনও একটি কনসেপ্ট হলেও মহিন্দ্রার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে। ভারতীয় মূলধারার বাজারে আগে কখনোই বড় পরিসরে পিকআপ-স্টাইল SUV নিয়ে ভাবা হয়নি। ভিশন SXT সেই শূন্যস্থান পূরণ করতে আসছে, যেখানে অ্যাডভেঞ্চারপ্রেমী ক্রেতাদের সঙ্গে সঙ্গে শহুরে ক্রেতারাও সমান আগ্রহী হবে। থার পরিবারের উত্তরসূরি হিসেবেই এটি আত্মপ্রকাশ করতে চলেছে

এবং দশকের দ্বিতীয়ার্ধে বাজারে আসার পর নতুন এক ধারা তৈরি করবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে। মহিন্দ্রা ইতিমধ্যেই প্রোডাকশন প্রক্রিয়া শুরু করার রূপরেখা তৈরি করেছে এবং অনুমান করা হচ্ছে, আগামী দু-এক বছরের মধ্যেই এটি বাস্তবায়িত হবে।

মহিন্দ্রার ভিশন SXT তাই শুধু একটি গাড়ি নয়, বরং ভারতের অটোমোবাইল ইন্ডাস্ট্রিতে এক নতুন যাত্রার প্রতীক, যেখানে ঐতিহ্যের সঙ্গে ভবিষ্যতের প্রযুক্তি ও সাহসী নকশার মিলন ঘটেছে। এটি যেমন অফ-রোড ক্ষমতা নিয়ে অ্যাডভেঞ্চারের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে, তেমনি আধুনিক ডিজাইন ও প্রযুক্তির মিশেলে শহুরে ক্রেতাদের মন জয় করার সম্ভাবনাও রাখছে। সেই কারণেই এখন থেকেই এটি আলোচনার কেন্দ্রে এবং প্রত্যাশার শীর্ষে।

Telegram Join

Leave a Comment

Join Our WhatsApp Group!