Philips Hue: ফিলিপস হিউ ব্রিজ প্রো , প্রায় এক দশক পর স্মার্ট লাইটিং দুনিয়ায় বড় আপগ্রেডের আভাস

নিউজ ডেস্ক: প্রায় এক দশক ধরে ফিলিপস হিউ ব্রিজে কোনো বড় আপডেট আসেনি। স্মার্ট হোম জগতের প্রযুক্তিপ্রেমীরা তাই অনেক দিন ধরেই অপেক্ষা করছিলেন নতুন কোনো সংস্করণের জন্য। অবশেষে সেই অপেক্ষার প্রহর প্রায় শেষ হতে চলেছে। নানা সূত্র থেকে আসা একাধিক ফাঁস হওয়া তথ্যের মাধ্যমে পরিষ্কার হয়ে উঠছে যে সিগনিফাই এবার সত্যিই হিউ ব্রিজের একটি সম্পূর্ণ নতুন সংস্করণ আনতে চলেছে। এই নতুন মডেলের নাম হবে হিউ ব্রিজ প্রো এবং এটি স্মার্ট লাইটিং ইকোসিস্টেমকে সম্পূর্ণ নতুন অভিজ্ঞতায় নিয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Whatsapp Join

গত সপ্তাহে হিউ-এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে হঠাৎ করেই হিউ ব্রিজ প্রো-এর একটি প্রোডাক্ট পেজ দেখা গিয়েছিল। যদিও খুব দ্রুত সেই পেজ সরিয়ে নেওয়া হয়, তবে তার আগেই জার্মানির পরিচিত ব্লগ HueBlog সেই তথ্য সংগ্রহ করে ফেলে। এতে বোঝা যায় যে নতুন ব্রিজ কেবলমাত্র হার্ডওয়্যার আপগ্রেড নয়, বরং কার্যক্ষমতা ও সুবিধার ক্ষেত্রেও এক যুগান্তকারী পরিবর্তন আনতে চলেছে। এর সঙ্গে আরেকটি মজার ঘটনা ঘটেছে—যুক্তরাষ্ট্রে এক গ্রাহক পরীক্ষামূলকভাবে লোয়েস স্টোর থেকে এই নতুন ডিভাইস হাতে পেয়ে যান এবং রেডিটে ছবি পোস্ট করে দেন। ফলে আনুষ্ঠানিক ঘোষণার আগেই পুরো ব্যাপারটি কার্যত নিশ্চিত হয়ে যায়। ধারণা করা হচ্ছে, আগামী মাসে বার্লিনে অনুষ্ঠিতব্য আইএফএ ২০২৫ প্রযুক্তি মেলাতেই সিগনিফাই আনুষ্ঠানিকভাবে হিউ ব্রিজ প্রোকে উন্মোচন করবে।

বর্তমান হিউ ব্রিজের দ্বিতীয় প্রজন্ম বাজারে এসেছে ২০১৫ সালে। এতদিন ধরে এটিই ছিল হিউ লাইটিং সিস্টেমের মূল মস্তিষ্ক। যদিও এটি যথেষ্ট ভালোভাবে কাজ করেছে, তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এর সীমাবদ্ধতাও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে যে সব বাড়িতে অনেক বেশি সংখ্যক হিউ লাইট ও আনুষঙ্গিক ডিভাইস ব্যবহার হচ্ছে, সেখানে পুরোনো ব্রিজের ক্ষমতা অপ্রতুল হয়ে উঠছে। কারণ এটি সর্বাধিক ৫০টি লাইট এবং ১২টি অ্যাকসেসরিজ পর্যন্ত সাপোর্ট করতে পারে। এর পাশাপাশি সেটআপের জন্য এখনও রাউটারের সঙ্গে ইথারনেট কেবল ব্যবহার বাধ্যতামূলক, যা আধুনিক ওয়্যারলেস যুগে অনেক ব্যবহারকারীর কাছে অসুবিধাজনক।

নতুন হিউ ব্রিজ প্রো এসব সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠতে তৈরি হয়েছে। HueBlog–এর রিপোর্ট অনুযায়ী, এতে থাকছে ১.৭ গিগাহার্টজ গতির কোয়াড-কোর কর্টেক্স প্রসেসর এবং ৮ জিবি র‍্যাম। তুলনা করলে দেখা যায়, বর্তমান ব্রিজে যেখানে মাত্র ১৬ এমবি মেমরি ছিল, সেখানে এটি এক অভাবনীয় লাফ। এই শক্তিশালী প্রসেসরের ফলে প্রতিশ্রুতিমতো নতুন ব্রিজ পাঁচগুণ দ্রুত রেসপন্স টাইম দেবে। একসঙ্গে ১৫০টি লাইট, ৫০টি অ্যাকসেসরিজ এবং সর্বাধিক ৫০০টি সিন সাপোর্ট করার ক্ষমতা থাকবে এতে। ফলে বৃহৎ স্মার্ট হোম সেটআপও সহজেই নিয়ন্ত্রণ করা যাবে।

বিদ্যুৎ সংযোগেও আনা হয়েছে পরিবর্তন। এবার পাওয়ার সাপ্লাইয়ের জন্য ব্যবহৃত হবে ইউএসবি-সি, আর সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এখন থেকে ওয়াই-ফাই কানেক্টিভিটিও থাকবে। অর্থাৎ চাইলে আর রাউটারের সঙ্গে ব্রিজকে তার দিয়ে যুক্ত রাখতে হবে না। অবশ্য ইথারনেট সংযোগের বিকল্পও খোলা থাকবে, ফলে ব্যবহারকারী চাইলে পুরোনো পদ্ধতিও অবলম্বন করতে পারবেন।

নতুন ব্রিজের সবচেয়ে আলোচিত বৈশিষ্ট্য হলো মোশনঅওয়্যার প্রযুক্তি। সিগনিফাই দাবি করছে, অন্তত তিনটি হিউ বাল্ব একটি ঘরে থাকলেই ব্রিজ প্রো সেই আলো ব্যবহার করে ঘরে মানুষের নড়াচড়া শনাক্ত করতে পারবে। ফলে আলাদা কোনো মোশন সেন্সরের প্রয়োজন হবে না। যদিও এখনও পুরোপুরি পরিষ্কার নয় এটি কীভাবে কাজ করে, তবে ধারণা করা হচ্ছে এটি Ivani Sensify নামক একটি প্ল্যাটফর্মের উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। এই প্ল্যাটফর্ম মেইনস পাওয়ারড জিগবি ডিভাইসগুলিকে সেন্সরের মতো কাজে লাগাতে পারে। হিউ–এর বোন ব্র্যান্ড WiZ ইতিমধ্যেই ওয়াই-ফাই বাল্বের মাধ্যমে একইরকম সুবিধা দিচ্ছে। তাই এবার হিউ–এর জিগবি ইকোসিস্টেমেও সেই সক্ষমতা যুক্ত হচ্ছে। যদি এটি কার্যকরী হয়, তবে ব্যবহারকারীদের অভিজ্ঞতায় এটি হবে এক বিশাল পরিবর্তন।

তবে হিউ ব্রিজ প্রো একা বাজারে আসছে না। এর সঙ্গে আরও কয়েকটি নতুন ডিভাইস উন্মোচনের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো তারযুক্ত ২কে ভিডিও ডোরবেল। এর পাশাপাশি আসছে নতুন প্রজন্মের বাল্ব এবং আউটডোর লাইটিং।

নতুন এ১৯/ই২৬ বাল্বকে আগের চেয়ে আরও বেশি বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী করা হয়েছে। এটি আগের তুলনায় ৪০ শতাংশ কম শক্তি খরচ করবে এবং ডিমিং ফিচারের মাধ্যমে আলো নামিয়ে আনা যাবে মাত্র ০.২ শতাংশ পর্যন্ত, যা অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও মোলায়েম। একই সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে হিউ–এর নিজস্ব ChromaSync প্রযুক্তি, যা বিভিন্ন লাইট ফিক্সচারের মধ্যে আরও নিখুঁতভাবে রঙের সামঞ্জস্য তৈরি করবে। শুধু তাই নয়, ইনডোর ও আউটডোর উভয় পরিবেশের জন্য নতুন গ্রেডিয়েন্ট লাইট স্ট্রিপও বাজারে আসছে, যেখানে রঙের মেলবন্ধন হবে আরও আকর্ষণীয়।

হিউ–এর জনপ্রিয় ফেস্টাভিয়া সিরিজেও আসছে নতুন সংযোজন। এবার যুক্ত হবে স্থায়ী আউটডোর লাইট, যা বাড়ির বাইরের প্রান্ত বরাবর বসানো যাবে। এছাড়াও থাকছে স্টাইলিশ গ্লোব স্ট্রিং লাইট, যেখানে কাস্টমাইজড গ্রেডিয়েন্ট ইফেক্ট ব্যবহার করে আলোর ভিন্ন ভিন্ন পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব হবে। এসব নতুন প্রোডাক্ট গৃহসজ্জার পাশাপাশি উৎসব ও বিশেষ মুহূর্তকে আরও মনোমুগ্ধকর করে তুলবে।

সফটওয়্যার ক্ষেত্রেও পরিবর্তন আসছে। হিউ এবার Sonos Voice Control এর সঙ্গে হাত মেলাচ্ছে। ফলে ব্যবহারকারীরা তাঁদের সোনোস স্পিকারের মাধ্যমে সরাসরি হিউ লাইট নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন। যেমন, লাইট ডিম করা, নতুন সিন সেট করা কিংবা রঙ পরিবর্তন করা যাবে কণ্ঠ নির্দেশের মাধ্যমে। যদিও এটি অ্যামাজনের অ্যালেক্সা বা অ্যাপলের সিরির মতো সম্পূর্ণ পরিসরের সুবিধা দেবে না, তবু একটি বড় সুবিধা হলো—সব নির্দেশ স্থানীয়ভাবেই সম্পন্ন হবে, ক্লাউডে পাঠানোর প্রয়োজন পড়বে না। এতে ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য আরও সুরক্ষিত থাকবে।

সবকিছু মিলিয়ে স্পষ্ট যে সিগনিফাই আসন্ন আইএফএ ২০২৫ মেলায় বড়সড় চমক দিতে চলেছে। হিউ ব্রিজ প্রো-এর দাম সম্পর্কে এখনও কিছু জানা যায়নি, তবে হিউ-এর পূর্ব ইতিহাস থেকে অনুমান করা যায় যে এটি প্রিমিয়াম দামে বিক্রি হবে।

Telegram Join

স্মার্ট হোম প্রেমীরা বহুদিন ধরেই দাবি জানাচ্ছিলেন এমন একটি নতুন হাবের জন্য, যা আধুনিক সেটআপের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পারে। যদি সত্যিই মোশনঅওয়্যার প্রযুক্তি প্রতিশ্রুতমতো কাজ করে এবং লাইটকে সেন্সরের ভূমিকায় ব্যবহার করতে পারে, তবে এটি হবে হিউ ব্রিজের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় আপগ্রেড। ২০১২ সালে যখন প্রথমবার হিউ সিস্টেম চালু হয়েছিল, তখন সেটি স্মার্ট লাইটিং জগতে বিপ্লব এনেছিল। এক দশক পর হিউ ব্রিজ প্রো আবারও সেই বিপ্লবের পুনরাবৃত্তি ঘটাবে বলেই প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।

Leave a Comment

Join Our WhatsApp Group!