নিউজ ডেস্ক: অ্যাপলের প্রযুক্তিপ্রেমী ভক্তদের জন্য সুখবর আসছে। সংস্থাটি আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই তাদের বহুল প্রতীক্ষিত আইফোন ১৭ সিরিজ বাজারে আনতে চলেছে। বিভিন্ন রিপোর্ট অনুযায়ী, আইফোন ১৭-এর লঞ্চ ইভেন্ট অনুষ্ঠিত হবে ৯ সেপ্টেম্বর, এবং লঞ্চের প্রায় এক সপ্তাহ পর থেকেই নতুন মডেলের বিক্রি শুরু হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এ বছর শুধুমাত্র আইফোনই নয়, আরও বহু নতুন পণ্য ও চমকপ্রদ প্রযুক্তি নিয়ে আসছে অ্যাপল।
ব্লুমবার্গের বিখ্যাত টেক বিশ্লেষক মার্ক গুরম্যান তাঁর সাম্প্রতিক Power On নিউজলেটারে জানিয়েছেন, আইফোন ১৭-এর সঙ্গে অ্যাপল উন্মোচন করতে চলেছে তৃতীয় প্রজন্মের এয়ারপডস প্রো ৩। এবার এই ওয়্যারলেস ইয়ারবাডে যুক্ত হতে পারে এক অভিনব ও আকর্ষণীয় বৈশিষ্ট্য—হার্ট রেট ট্র্যাকিং ফিচার। গুরম্যানের তথ্য অনুযায়ী, এয়ারপডস প্রো ৩-এ থাকবে উন্নত মানের অপটিক্যাল সেন্সর, যা কানে ইয়ারবাড পরা অবস্থায় ব্যবহারকারীর হৃদস্পন্দনের হার নির্ভুলভাবে পর্যবেক্ষণ করতে সক্ষম হবে। এই ফিচারটি হবে অনেকটাই Powerbeats Pro 2-এ ব্যবহৃত প্রযুক্তির মতো, যা এই বছরের শুরুতে বাজারে এসেছিল।
গুরম্যান জানান, ইয়ারবাডের ভেতরে থাকা সেন্সরগুলো একসঙ্গে শত শত বার সেকেন্ডে স্পন্দন করবে এবং রক্তপ্রবাহের পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ করে ব্যবহারকারীর হার্ট রেট নির্ধারণ করবে। সংগৃহীত এই ডেটা স্বয়ংক্রিয়ভাবে iPhone-এর Health অ্যাপের সঙ্গে সিঙ্ক হবে এবং চাইলে ব্যবহারকারীরা তা বিভিন্ন তৃতীয় পক্ষের ফিটনেস অ্যাপের সঙ্গেও শেয়ার করতে পারবেন।
এতদিন অ্যাপল হার্ট রেট মনিটরিং ফিচারটি শুধুমাত্র অ্যাপল ওয়াচে সীমাবদ্ধ রেখেছিল। কিন্তু এবার কোম্পানি এই প্রযুক্তি আরও বিস্তৃত করতে চাইছে। এয়ারপডসে হার্ট রেট ট্র্যাকিং যোগ হওয়া বিশেষত তাঁদের জন্য উপকারী হবে যারা ব্যায়াম বা ওয়ার্কআউটের সময় এটি ব্যবহার করেন। গুরম্যান আরও জানিয়েছেন, যদি ব্যবহারকারী একই সময়ে অ্যাপল ওয়াচ ও এয়ারপডস পরেন, তাহলে অ্যাপল ইকোসিস্টেম স্বয়ংক্রিয়ভাবে ওয়াচের ডেটাকেই প্রাধান্য দেবে। তবে যদি ঘড়িটি না থাকে, এয়ারপডস প্রো ৩ ব্যাকআপ হিসেবে হৃদস্পন্দনের সঠিক ডেটা সরবরাহ করবে।
শুধু হার্ট রেট মনিটরিং নয়, নতুন এয়ারপডস প্রো ৩-এ থাকছে আরও অনেক উল্লেখযোগ্য উন্নতি। রিপোর্টে বলা হয়েছে, সাউন্ড কোয়ালিটি এবং অ্যাকটিভ নয়েজ ক্যান্সেলেশন প্রযুক্তি আগের তুলনায় আরও নিখুঁত ও কার্যকর হবে। তাছাড়া নতুন মডেলের ব্যাটারি লাইফ আরও দীর্ঘ হতে পারে এবং এর ডিজাইনেও কিছু সূক্ষ্ম পরিবর্তন আনার সম্ভাবনা রয়েছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, বর্তমান দ্বিতীয় প্রজন্মের এয়ারপডস প্রো ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে বাজারে এসেছিল, এবং ২০২৩ সালে এতে ইউএসবি-সি চার্জিং কেস যুক্ত করা হয়। কিন্তু এয়ারপডস প্রো ৩ আনতে চলেছে আরও বড় পরিবর্তন ও প্রযুক্তিগত উন্নয়ন।
অ্যাপল সাধারণত প্রতি বছর আইফোন লঞ্চ ইভেন্টের সঙ্গেই নতুন এয়ারপডসের সংস্করণ উন্মোচন করে। তাই ধারণা করা হচ্ছে, এ বছরের সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য ফ্যাল লঞ্চ ইভেন্টে আইফোন ১৭ সিরিজের পাশাপাশি আমরা এয়ারপডস প্রো ৩-ও দেখতে পাব।
আরও পড়ুনঃ অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীদের জন্য দুঃসংবাদ, অ্যান্ড্রয়েড ফোন অ্যাপের নতুন ডিজাইন ঘিরে ক্ষোভ
তবে এখানেই শেষ নয়। গুরম্যান জানিয়েছেন, অ্যাপল আরও অনেক নতুন ডিভাইস নিয়ে কাজ করছে, যা আগামী কয়েক মাসে বাজারে আসতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে রিফ্রেশড অ্যাপল ওয়াচ মডেল, আরও দ্রুত ও শক্তিশালী ভিশন প্রো হেডসেট, এবং সম্পূর্ণ নতুন iPad Pro মডেল, যেখানে ব্যবহৃত হবে অ্যাপলের পরবর্তী প্রজন্মের শক্তিশালী M5 প্রসেসর। একইসঙ্গে নতুন Apple TV সেট-টপ বক্স এবং উন্নত পারফরম্যান্সের HomePod Mini স্মার্ট স্পিকারও বছরের শেষ নাগাদ বাজারে আসবে বলে জানা গেছে।
২০২৬ সালকে সামনে রেখে অ্যাপল আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ আপডেটের পরিকল্পনা করছে। সংস্থাটি কাজ করছে iPhone 17e নামে একটি কম দামি আইফোন মডেলের ওপর, যা প্রিমিয়াম প্রযুক্তিকে আরও বেশি মানুষের নাগালের মধ্যে নিয়ে আসবে। পাশাপাশি আপডেটেড iPad Air এবং নতুন এন্ট্রি-লেভেল iPad বাজারে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ম্যাক লাইনআপেও বড় ধরনের উন্নতি আসতে চলেছে। জানা গেছে, MacBook Pro এবং MacBook Air-এর নতুন মডেলে থাকবে শক্তিশালী M5 চিপ, যা পারফরম্যান্স এবং ব্যাটারি লাইফে একেবারে নতুন মানদণ্ড তৈরি করবে। অ্যাপল নতুন এক্সটার্নাল ডিসপ্লে এবং সম্পূর্ণ নতুনভাবে ডিজাইন করা Mac এক্সেসরিজ নিয়েও কাজ করছে।
সবশেষে, গুরম্যান উল্লেখ করেছেন বহু প্রতীক্ষিত একটি পণ্যের কথা। অ্যাপল দীর্ঘদিন ধরে যে স্ক্রিনসহ নতুন HomePod নিয়ে কাজ করছিল, সেটি এবার আলোয় আসতে পারে। এই নতুন হোমপড চালিত হবে একটি বিশেষ Charismatic নামের নতুন হোম-কেন্দ্রিক অপারেটিং সিস্টেমে, যা স্মার্ট হোম ব্যবস্থাপনায় এক নতুন যুগের সূচনা করবে।
এর বাইরেও অ্যাপল ভবিষ্যতের জন্য আরও কিছু অগ্রসর প্রযুক্তি নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছে। এর মধ্যে রয়েছে হালকা ওজনের স্মার্ট গ্লাস, টেবিলটপ রোবট, ক্যামেরাযুক্ত উন্নত AirPods, এমনকি একসঙ্গে ব্যবহারযোগ্য বিশাল আকারের Mac–iPad হাইব্রিড ডিভাইস।
সব মিলিয়ে বলা যায়, আগামী কয়েক মাস অ্যাপলের ভক্তদের জন্য অত্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ হতে চলেছে। আইফোন ১৭ সিরিজ, এয়ারপডস প্রো ৩, M5 চিপসহ নতুন আইপ্যাড ও ম্যাকবুক, নতুন হোমপড, এবং আরও অনেক পণ্য প্রযুক্তি জগতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে চলেছে। সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য লঞ্চ ইভেন্টে অ্যাপল আবারও প্রমাণ করতে চায় কেন তারা বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তির শীর্ষে রয়েছে।

