Xiaomi Watch S4: “ভারতের বাজারে কবে আসছে Xiaomi Watch S4 41mm, কৌতূহল বাড়ছে ক্রেতাদের”

নিউজ ডেস্ক: চীনের জনপ্রিয় স্মার্ট গ্যাজেট নির্মাতা প্রতিষ্ঠান শাওমি (Xiaomi) আবারও বিশ্ববাজারে নিজেদের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করল। সম্প্রতি তারা একসঙ্গে দুটি নতুন স্মার্ট ডিভাইস লঞ্চ করেছে—Xiaomi Watch S4 41mm এবং Xiaomi Smart Band 10 Gilmar Edition। প্রযুক্তি জগতে এই ঘোষণা যে বড়সড় চমক নিয়ে এসেছে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। ক্রমবর্ধমান স্মার্টওয়াচ বাজারে যেখানে ইতিমধ্যেই রয়েছে অ্যাপল, স্যামসাং, হুয়াওয়ে বা অ্যামেজফিট-এর মতো ব্র্যান্ড, সেখানে শাওমি নিজেদের সাশ্রয়ী কিন্তু আধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন প্রোডাক্ট দিয়ে এক শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করছে।

Telegram Join

নতুন স্মার্টওয়াচের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো এর শক্তিশালী ব্যাটারি ব্যাকআপ। শাওমির দাবি, একবার পুরো চার্জ দিলে এই ঘড়িটি টানা আট দিন পর্যন্ত ব্যবহার করা যাবে। আজকের ব্যস্ত জীবনে যেখানে বারবার চার্জ দেওয়া অনেকের কাছেই ঝামেলার, সেখানে এই দীর্ঘ ব্যাটারি ব্যাকআপ নিঃসন্দেহে ব্যবহারকারীদের কাছে এক বড় সুবিধা। যারা প্রতিদিন ডিভাইস চার্জ করার ঝক্কি এড়াতে চান, তাদের জন্য এই ঘড়িটি হতে চলেছে এক অনন্য সঙ্গী।

শাওমি ওয়াচ এস৪ ৪১এমএম মডেলটির ডিজাইন নিয়ে আলাদা করে বলতেই হয়। এটি একেবারে প্রিমিয়াম স্মার্টওয়াচের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার মতো করে তৈরি করা হয়েছে। ছোট আকারের হলেও এতে রয়েছে স্টেইনলেস স্টিলের মজবুত ফ্রেম, যা কেবল টেকসই নয়, বরং নান্দনিক সৌন্দর্যও বাড়িয়ে তোলে। ওজন মাত্র ৩২ গ্রাম হওয়ায় এটি হাতে পরলে ভারী বা বিরক্তিকর মনে হয় না। যারা সারাদিন হাতে ঘড়ি পরে থাকতে চান, তাদের জন্য এটি আদর্শ। এর ১.৩২-ইঞ্চি গোলাকার AMOLED ডিসপ্লে অত্যন্ত ঝকঝকে, যা ৪৬৬x৪৬৬ রেজোলিউশনের ছবি প্রদর্শন করতে সক্ষম। ডিসপ্লের রিফ্রেশ রেট ৬০ হার্জ হওয়ায় স্ক্রলিং বা নেভিগেশনে থাকে বাড়তি স্বাচ্ছন্দ্য। বিশেষ করে উজ্জ্বলতার দিক থেকে এটি একধাপ এগিয়ে, কারণ এর সর্বোচ্চ উজ্জ্বলতা ১৫০০ নিট পর্যন্ত পৌঁছতে পারে। ফলে প্রখর রোদেও ডিসপ্লে স্পষ্টভাবে দেখা যায়, যা আউটডোর ব্যবহারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

শুধু নকশা বা ডিসপ্লেই নয়, স্বাস্থ্য সংক্রান্ত ফিচারেও শাওমি যথেষ্ট মনোযোগ দিয়েছে। এই ঘড়িতে রয়েছে উন্নতমানের ৪-এলইডি + ৪-পিডি হার্ট রেট সেন্সর, যা ব্যবহারকারীর হৃদস্পন্দন আরও নির্ভুলভাবে পরিমাপ করতে সক্ষম। এছাড়াও এটি রক্তের অক্সিজেন লেভেল (SpO2), ঘুমের ধরণ, মানসিক চাপ বা স্ট্রেস লেভেল পর্যবেক্ষণ করতে পারে। মহিলাদের জন্য এতে রয়েছে বিশেষ মেনস্ট্রুয়াল সাইকেল ট্র্যাকিং ফিচার, যা স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণকে আরও ব্যক্তিগত ও উপযোগী করে তুলেছে। প্রতিদিনের ফিটনেস ট্র্যাকিং ছাড়াও এই স্মার্টওয়াচে রয়েছে মোট ১৫০টি স্পোর্টস মোড। এর মধ্যে বিশেষ করে সাঁতার কাটার সময় রিয়েল-টাইম হার্ট রেট ট্র্যাকিং ফিচারটি নজরকাড়া। জলপ্রতিরোধ ক্ষমতা (5ATM রেটিং) থাকায় ঘড়িটি সাঁতার বা জলক্রীড়ার সময়েও ব্যবহার করা যাবে।

পারফরম্যান্সের কথা বললে এখানে শাওমি নতুন এক্সরিং টি১ চিপ ব্যবহার করেছে। কোম্পানির দাবি, এটি আগের মডেলের তুলনায় প্রায় ৩৫ শতাংশ বেশি দক্ষ। ফলে দৈনন্দিন ব্যবহারে ঘড়িটি হবে আরও দ্রুত এবং সঠিক। অ্যাপ খোলা, ফিচার ব্যবহার কিংবা বিভিন্ন সেন্সরের কাজকর্মে থাকবে না কোনো ধীরগতি। একইসঙ্গে ব্লুটুথ ৫.৪, ওয়াই-ফাই, এনএফসি এবং জিপিএস সমর্থন থাকায় সংযোগের দিক থেকেও এটি আধুনিক সব সুবিধা নিয়ে এসেছে।

স্মার্টওয়াচ ব্যবহারকারীদের সবচেয়ে বড় সমস্যাগুলির একটি হলো ব্যাটারি লাইফ। প্রতিদিন চার্জ দিতে হয় এমন ঘড়ি অনেক সময় বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। শাওমি সেই সমস্যার সমাধান দিয়েছে ৩২০ mAh ব্যাটারির মাধ্যমে। একবার চার্জ দিলে এটি টানা আট দিন পর্যন্ত চলে, যা ব্যবহারকারীর জন্য সত্যিই এক বড় স্বস্তি। এতে চার্জার বহন করার ঝক্কি কমে যায়, আবার দীর্ঘ ভ্রমণ বা ব্যস্ত সময়েও ব্যবহারকারীরা নিশ্চিন্ত থাকতে পারেন।

মূল্য নির্ধারণের দিক থেকেও শাওমি তাদের বহুল প্রচলিত নীতি অনুসরণ করেছে—অর্থাৎ, কম দামে উন্নত ফিচার দেওয়া। Xiaomi Watch S4 41mm-এর সাধারণ কালো, সাদা এবং মিন্ট সবুজ রঙের মডেলগুলির দাম শুরু হয়েছে ১৫৯ ইউরো থেকে। অন্যদিকে, প্রিমিয়াম সানসেট গোল্ড মডেলটির দাম রাখা হয়েছে ২১৯ ইউরো। ইউরোপীয় বাজারে এই দাম তুলনামূলকভাবে বেশ সাশ্রয়ী, বিশেষ করে অ্যাপল ও স্যামসাং-এর প্রিমিয়াম স্মার্টওয়াচগুলির তুলনায়। ফলে যারা কম দামে আধুনিক ও দীর্ঘস্থায়ী স্মার্টওয়াচ চান, তাদের কাছে এটি বিশেষ আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে।

তবে ভারতীয় ব্যবহারকারীদের জন্য সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, এই নতুন স্মার্টওয়াচ কবে দেশে আসছে। ভারত শাওমির অন্যতম বড় বাজার এবং এখানকার গ্রাহকরা স্মার্টফোন ছাড়াও স্মার্টওয়াচ ও ব্যান্ড কেনার ক্ষেত্রে শাওমিকে অনেকটাই ভরসা করে আসছেন। তাই বিশ্ববাজারে লঞ্চের পর ভারতের বাজারে কবে এটি আসবে তা নিয়ে ইতিমধ্যেই কৌতূহল তৈরি হয়েছে। শাওমির পূর্ব অভিজ্ঞতা থেকে বলা যায়, বিশ্ববাজারে লঞ্চ হওয়ার কয়েক মাসের মধ্যেই ভারতীয় বাজারে তা আনা হয়। ফলে খুব শিগগিরই ভারতীয় ক্রেতারাও এটি হাতের নাগালে পেতে পারেন।

নতুন প্রজন্মের এই স্মার্টওয়াচ শুধু প্রযুক্তিগত সুবিধার দিক থেকেই নয়, বরং জীবনযাত্রার অংশ হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। আজকের দিনে স্মার্টওয়াচ আর কেবল সময় দেখার যন্ত্র নয়। এটি স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ, যোগাযোগ, নোটিফিকেশন চেকিং, এমনকি পেমেন্ট পর্যন্ত নানা কাজে ব্যবহার করা যায়। এক কথায়, এটি এখন স্মার্টফোনের এক সম্প্রসারিত রূপ, যা হাতে বেঁধে রাখা যায়। Xiaomi Watch S4 41mm সেই চাহিদাকেই সামনে রেখে আরও উন্নত রূপে এসেছে।

এছাড়াও, Xiaomi Smart Band 10 Gilmar Edition-এর কথাও উল্লেখযোগ্য। যদিও এই ব্যান্ডটি মূলত ফিটনেস-কেন্দ্রিক, তবুও এতে রয়েছে আধুনিক সেন্সর, ব্যাটারি ব্যাকআপ এবং স্টাইলিশ ডিজাইন। যারা বড় স্মার্টওয়াচের বদলে হালকা-পাতলা স্মার্টব্যান্ড ব্যবহার করতে চান, তাদের জন্য এটি হবে আদর্শ বিকল্প।

সব মিলিয়ে বলা যায়, শাওমি তাদের নতুন লঞ্চের মাধ্যমে আবারও প্রমাণ করেছে যে তারা শুধু সাশ্রয়ী দামে পণ্য বাজারে আনে না, বরং ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী সর্বাধুনিক প্রযুক্তি পৌঁছে দিতে সক্ষম। আগামী দিনে এই স্মার্টওয়াচ বিশ্ববাজারে কতটা জনপ্রিয়তা পায়, তা সময়ই বলবে। তবে একটি কথা নিশ্চিত—শাওমির এই নতুন স্মার্টওয়াচ ব্যবহারকারীদের প্রযুক্তির অভিজ্ঞতাকে আরও সমৃদ্ধ করে তুলবে।

Whatsapp Join

Leave a Comment

Join Our WhatsApp Group!