নিউজ ডেস্ক: ভারতের কোটি কোটি নাগরিকের পরিচয়পত্র হিসেবে আধার আজ অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। সরকারি ভর্তুকি থেকে শুরু করে ব্যাংকিং পরিষেবা, মোবাইল সিম কেনা কিংবা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি—প্রতিটি ক্ষেত্রেই আধার অপরিহার্য নথি হিসেবে গণ্য। এতদিন পর্যন্ত আধারের তথ্য আপডেট করতে হলে ব্যবহারকারীদেরকে আধার সেবা কেন্দ্র বা এনরোলমেন্ট সেন্টারে যেতে হতো। সেখানে লাইনে দাঁড়িয়ে দীর্ঘ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে কাজ করতে হতো। কিন্তু এবার সেই কষ্টসাধ্য প্রক্রিয়াকে আরও সহজ করে তুলতে চলেছে সরকার। ইউনিক আইডেন্টিফিকেশন অথরিটি অব ইন্ডিয়া (UIDAI) একটি আধার মোবাইল অ্যাপ তৈরি করছে, যা ব্যবহারকারীদের হাতে এনে দেবে নতুন যুগের ডিজিটাল সমাধান।
সরকারি সূত্র অনুযায়ী, এই আধার মোবাইল অ্যাপ ব্যবহারকারীদেরকে ঘরে বসেই নিজেদের ব্যক্তিগত তথ্য আপডেট করার সুযোগ দেবে। নাম, ঠিকানা, জন্মতারিখসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরিবর্তন করা যাবে এই অ্যাপের মাধ্যমে। ফলে আধার সেবা কেন্দ্রে গিয়ে ফর্ম পূরণ, নথি জমা দেওয়া, কিংবা দীর্ঘ লাইনে দাঁড়ানোর প্রয়োজন আর হবে না। অ্যাপটির উন্নয়নকাজ প্রায় শেষের পথে এবং চলতি বছরের শেষেই এটি চালু হতে পারে বলে জানিয়েছেন এক সরকারি আধিকারিক।
এই অ্যাপটি ব্যবহারকারী-বান্ধব ও সুষ্ঠুভাবে সাজানো একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে তৈরি হচ্ছে। ব্যবহারকারীরা একক ইন্টারফেসে লগইন করে সহজেই তথ্য পরিবর্তনের আবেদন করতে পারবেন। এখানে থাকবে ধাপে ধাপে নির্দেশিকা, যা গ্রামীণ বা প্রযুক্তি সম্পর্কে খুব একটা অভ্যস্ত নন এমন ব্যক্তিরাও সহজে ব্যবহার করতে পারবেন। ফলে ডিজিটাল পরিষেবার প্রসারে এটি একটি বড় পদক্ষেপ হতে চলেছে।
প্রযুক্তির ক্ষেত্রে UIDAI এই অ্যাপে যুক্ত করতে চলেছে অত্যাধুনিক ফিচার। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এবং ফেস আইডি প্রযুক্তি সংযুক্ত হবে, যার ফলে পরিচয় যাচাইয়ের প্রক্রিয়া হবে আরও দ্রুত ও নিরাপদ। আগামী নভেম্বর মাস থেকে ব্যবহারকারীদেরকে শুধু বায়োমেট্রিক তথ্য—যেমন ফিঙ্গারপ্রিন্ট ও আইরিস স্ক্যান—দেওয়ার জন্য এনরোলমেন্ট সেন্টারে যেতে হবে। বাকি সমস্ত তথ্য যেমন নাম, জন্মতারিখ বা ঠিকানা বদলানো যাবে সরাসরি মোবাইল থেকেই। এই পদক্ষেপ পরিচয় জালিয়াতির ঝুঁকি কমাবে, কাগজপত্রের ঝামেলা দূর করবে এবং সময়ও অনেক বাঁচাবে।
আরও পড়ুনঃ নতুন স্মার্টফোনে দুর্দান্ত ব্যাটারি, ফাস্ট চার্জিং আর আকর্ষণীয় ফিচার
এছাড়াও, অ্যাপটির সঙ্গে যুক্ত থাকবে সরকারি নথি যাচাইয়ের বিশেষ ব্যবস্থা। UIDAI পরিকল্পনা করেছে যে এই অ্যাপ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিভিন্ন সরকারি ডাটাবেস থেকে ব্যবহারকারীর তথ্য সংগ্রহ করবে। উদাহরণস্বরূপ, জন্ম সনদ, প্যান কার্ড, পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স, পাবলিক ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম (PDS)-এর রেশন কার্ড, এমনকি এমএনআরইজিএ-র নথিও এখানে যুক্ত করা হবে। বিদ্যুতের বিলের তথ্যও ব্যবহার করা যেতে পারে ঠিকানা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে। এর ফলে ব্যবহারকারীদের আলাদা করে নথি আপলোড করার ঝামেলাও অনেকটাই কমে যাবে।
শুধু মোবাইল অ্যাপই নয়, সরকার ইতিমধ্যেই চালু করেছে “আধার গুড গভর্নেন্স পোর্টাল”। তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে তৈরি এই পোর্টাল আধার প্রমাণীকরণ সংক্রান্ত আবেদনের অনুমোদন প্রক্রিয়াকে সহজ করার উদ্দেশ্যে চালু করা হয়েছে। বিভিন্ন সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানের আধার অথেন্টিকেশন সম্পর্কিত আবেদন এখন এই পোর্টালের মাধ্যমে দ্রুত জমা দেওয়া ও নিষ্পত্তি করা সম্ভব হবে। এর ফলে আধার পরিষেবার দক্ষতা আরও বাড়বে এবং ব্যবহারকারীরা আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সহজ অভিজ্ঞতা পাবেন।
সবমিলিয়ে বলা যায়, আধার মোবাইল অ্যাপ চালু হলে ভারতের ডিজিটাল পরিষেবায় এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে। কোটি কোটি ব্যবহারকারী ঘরে বসেই নিজের তথ্য পরিবর্তনের সুযোগ পাবেন। এতে যেমন সময় ও অর্থ বাঁচবে, তেমনই কমবে পরিচয় জালিয়াতির ঝুঁকি। আধারের সঙ্গে যুক্ত পরিষেবা যেমন ব্যাংকিং, সাবসিডি বা শিক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে এই পদক্ষেপ মানুষকে আরও দ্রুত ও কার্যকর সুবিধা দেবে। সরকারের লক্ষ্য হলো ডিজিটাল ইন্ডিয়ার স্বপ্ন পূরণ করা, আর এই আধার মোবাইল অ্যাপ সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।

