নিউজ ডেস্ক: ভারতের গাড়ি বাজারে এক বিশেষ নাম হলো হুন্ডাই স্যান্ট্রো। একসময় যে গাড়িটি শহুরে মধ্যবিত্ত পরিবারের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য সঙ্গী ছিল, সেই মডেলই এবার ফিরেছে নতুন সাজে। হুন্ডাই আনুষ্ঠানিকভাবে ২০২৫ সালের স্যান্ট্রো লঞ্চ করেছে, আর সঙ্গে এনেছে ডিজাইনে বিপ্লব, প্রযুক্তিতে চমক এবং দামে ক্রেতাদের নাগালের ভেতর রাখার এক অনন্য প্রতিশ্রুতি। মাত্র ৩.৫ লক্ষ টাকা (এক্স-শোরুম) থেকে শুরু হওয়া এই মডেল ইতিমধ্যেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। শহরে যাতায়াতকারী থেকে শুরু করে প্রথমবার গাড়ি কিনতে আগ্রহী ক্রেতা—সবার জন্যই এই নতুন স্যান্ট্রো হয়ে উঠতে পারে সেরা বিকল্প।
প্রথম দর্শনেই স্পষ্ট হয়ে যায়, গাড়িটির নকশা আর আগের মতো নেই। স্যান্ট্রোকে এবার SUV–এর ধাঁচে সাজিয়েছে হুন্ডাই। সামনে রয়েছে বোল্ড গ্রিল, তীক্ষ্ণ LED ডে-টাইম রানিং লাইটস, আকর্ষণীয় হেডল্যাম্প ডিজাইন এবং আধুনিক বাম্পার স্টাইলিং—যা ছোট হলেও গাড়িটিকে দিয়েছে আক্রমণাত্মক ও আত্মবিশ্বাসী চেহারা। অনেক ভ্যারিয়েন্টেই দেওয়া হয়েছে সানরুফ–সদৃশ গ্লাস প্যানেল, যা ছোট বাজেটের গাড়িতে প্রিমিয়াম স্পর্শ এনে দিয়েছে।
শুধু নকশাই নয়, নতুন স্যান্ট্রোর আরেকটি সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো এর জ্বালানি সাশ্রয়। হুন্ডাই ব্যবহার করেছে ১.০ লিটার স্মার্ট ইকো ইঞ্জিন, যার মাইলেজ প্রতি লিটার গ্যাসোলিনে প্রায় ৩৭ কিলোমিটার। এই সংখ্যা ভারতীয় ক্রেতাদের কাছে একেবারে অবিশ্বাস্য। উন্নত কম্বাস্টন প্রযুক্তি, বায়ুগতিগত নকশা এবং হালকা বডি—সব মিলিয়ে গাড়িটি পরিবারের দৈনন্দিন চাহিদা বা অফিসযাত্রার জন্য খরচ বাঁচানোর নির্ভরযোগ্য মাধ্যম হয়ে উঠেছে। ভারতীয় বাজারে যেখানে ক্রেতাদের বড় অংশই পেট্রল-ডিজেলের দাম নিয়ে চিন্তিত, সেখানে এত বেশি মাইলেজ নিশ্চিতভাবে স্যান্ট্রোকে এগিয়ে রাখবে প্রতিযোগীদের থেকে।
গাড়ির ভেতরে প্রবেশ করলে একেবারে অন্য অভিজ্ঞতা অপেক্ষা করছে। এই দামের গাড়িতে সাধারণত এত প্রযুক্তি আশা করা যায় না, কিন্তু হুন্ডাই তার ব্যতিক্রম ঘটিয়েছে। ভেতরে রয়েছে ৭ ইঞ্চির টাচস্ক্রিন ইনফোটেইনমেন্ট সিস্টেম, যাতে অ্যান্ড্রয়েড অটো ও অ্যাপল কারপ্লে–এর সুবিধা দেওয়া হয়েছে। ফলে স্মার্টফোনের অ্যাপ, মিউজিক বা ম্যাপ—সবকিছু সরাসরি স্ক্রিনেই ব্যবহার করা যায়। রয়েছে ডিজিটাল ইন্সট্রুমেন্ট ক্লাস্টার, ভয়েস কমান্ড সাপোর্ট, রিয়ার পার্কিং ক্যামেরা ও সেন্সর—যা শহরের ব্যস্ত রাস্তায় গাড়ি চালানোকে সহজ করে দেয়।
উচ্চ ভ্যারিয়েন্টগুলোতে আরও কিছু প্রিমিয়াম ফিচার যুক্ত হয়েছে। যেমন অটো ক্লাইমেট কন্ট্রোল, রিয়ার এসি ভেন্ট, পুশ বাটন স্টার্ট, এমনকি একটি সেমি-ডিজিটাল স্পিডোমিটার। ছোট বাজেটের হলেও গাড়িটির আরামের দিক থেকে কোনও কমতি রাখা হয়নি। যারা প্রথমবার গাড়ি কিনছেন, তারা নিশ্চয়ই বুঝবেন কীভাবে সাশ্রয়ী দামের সঙ্গে বিলাসিতার এক মিশ্রণ ঘটিয়েছে হুন্ডাই।
শুধু আরাম নয়, নিরাপত্তার দিকেও যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়েছে সংস্থা। নতুন স্যান্ট্রো ২০২৫–এর প্রতিটি ভ্যারিয়েন্টেই রয়েছে ডুয়াল ফ্রন্ট এয়ারব্যাগ, ABS সহ EBD, ISOFIX চাইল্ড সিট মাউন্ট, ইমপ্যাক্ট-সেন্সিং ডোর আনলক সিস্টেম, এবং স্পিড অ্যালার্ট ফিচার। এক কথায়, যে পরিবার ছোট বাচ্চা নিয়ে ভ্রমণ করেন, তাঁদের জন্য এই গাড়ি নিশ্চয়ই ভরসাযোগ্য হয়ে উঠবে। সাশ্রয়ী মূল্যে এমন নিরাপত্তা ব্যবস্থা অন্য প্রতিদ্বন্দ্বী মডেলে খুব একটা দেখা যায় না।
এখন আসা যাক দামের প্রসঙ্গে। ৩.৫ লক্ষ টাকা থেকে শুরু হওয়া এই মডেল সহজেই বাজেট সচেতন ক্রেতাদের নাগালের মধ্যে। শুধু তাই নয়, রয়েছে আকর্ষণীয় EMI স্কিম। মাসে মাত্র ৬৫০০ টাকা কিস্তি দিয়েই গাড়িটি কেনা সম্ভব। সঙ্গে হুন্ডাই ফাইন্যান্স থেকে সহজ লোন ও ন্যূনতম ডাউন পেমেন্ট সুবিধা থাকায় সাধারণ চাকুরিজীবী বা ছোট ব্যবসায়ীরাও এখন নতুন স্যান্ট্রো ঘরে তুলতে পারবেন কোনও আর্থিক চাপ ছাড়াই।
তাহলে প্রশ্ন উঠতে পারে—কে কে কিনবেন স্যান্ট্রো ২০২৫? প্রথমত, যারা প্রথমবার গাড়ি কিনছেন, তাদের জন্য এটি নিখুঁত বিকল্প। দ্বিতীয়ত, যারা শহরে প্রতিদিন যাতায়াত করেন এবং জ্বালানি খরচ বাঁচাতে চান, তাঁদের জন্যও এটি সেরা পছন্দ। তৃতীয়ত, যারা SUV–এর মতো ডিজাইন চান কিন্তু বাজেট সীমিত, তাঁরাও এই গাড়িকে বিবেচনা করতে পারেন। আর চতুর্থত, যারা চান বাজেট–বান্ধব গাড়িতেও আধুনিক প্রযুক্তি, আরাম ও নিরাপত্তা—তাদের জন্যও স্যান্ট্রো ২০২৫ হবে সঠিক সঙ্গী।

