নিউজ ডেস্ক: কাওয়াসাকি ভারতীয় মোটরসাইকেল বাজারে এক বড় চমক দিল নতুন 2026 KLX 230 লঞ্চের মাধ্যমে। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো এর বিশাল মূল্যহ্রাস—এখন এক্স-শোরুম প্রাইস শুরু হচ্ছে মাত্র ১.৯৯ লক্ষ টাকা থেকে। এর আগে যেখানে দাম ছিল অনেক বেশি, সেখানে এবার দামে ১.৩ লক্ষ টাকারও বেশি ছাড় এসেছে। এই দাম কমার মূল কারণ হল সম্পূর্ণ ইউনিট আমদানির (CBU) পরিবর্তে এখন দেশীয় উৎপাদন শুরু করা। এর ফলে বাইকটি এখন আরও সহজলভ্য হয়ে উঠেছে এবং সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামছে হিরো এক্সপালস 210-এর সঙ্গে, যার দাম ১.৭৬ লক্ষ টাকা।
২০২৬ সালের KLX 230 মডেল ভারতে আসছে দুটি রঙের বিকল্পে—প্রচলিত লাইম গ্রিন এবং ব্যাটল গ্রে। বাইকের গঠনশৈলীতে কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। সাসপেনশনের ট্রাভেল আগের থেকে কিছুটা কমানো হয়েছে এবং ডুয়াল-চ্যানেল এবিএসের পরিবর্তে এখন থাকছে সিঙ্গেল-চ্যানেল এবিএস। তবুও বাইকটি তার অফ-রোড চরিত্র অক্ষুণ্ণ রেখেছে, কারণ এতে থাকছে ২১ ইঞ্চির সামনের এবং ১৮ ইঞ্চির পেছনের স্পোক-হুইল সেটআপ, যা দুর্গম পথে চালানোর জন্য আদর্শ।
ইঞ্জিনের দিক থেকে KLX 230 একেবারেই প্রস্তুত অফ-রোড চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য। এতে থাকছে ২৩৩ সিসি, এয়ার-কুলড, সিঙ্গেল-সিলিন্ডার মোটর, যা উৎপাদন করে ১৯ হর্সপাওয়ার এবং ১৯ নিউটন মিটার টর্ক। এর সঙ্গে থাকছে ছয়-গিয়ারের ট্রান্সমিশন, যা বাইকটিকে দীর্ঘ দূরত্বে বা অফ-রোড অ্যাডভেঞ্চারে চালানোর সময় আরও কার্যকর করে তোলে।
আরও পড়ুনঃ Mahindra Vision SXT: মহিন্দ্রার নতুন চমক ভিশন SXT
এই বাইকের আরেকটি বড় দিক হল এর ওজন। মাত্র ১৩৯ কেজি কার্ব ওজনের কারণে KLX 230 অত্যন্ত হালকা, ফলে অফ-রোড পরিস্থিতিতে এটি চমৎকারভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। বিশেষ করে যারা দুর্গম পথে দ্রুত মোড় নিতে বা সংকীর্ণ জায়গায় চালাতে পছন্দ করেন, তাদের জন্য এই বাইক অসাধারণ সঙ্গী হয়ে উঠবে।
আরও পড়ুনঃ অ্যাপলের স্মার্ট হোম, সিঁড়ির এআই রূপান্তর আর প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ
ফিচারের দিক থেকেও বাইকটি সমৃদ্ধ। সামনে LED হেডল্যাম্প থাকায় রাতের অন্ধকারে আলোকসজ্জা শক্তিশালী হবে। এছাড়া ছোট কিন্তু কার্যকর একটি LCD ইন্সট্রুমেন্ট কনসোল দেওয়া হয়েছে, যেখানে ব্লুটুথ কানেক্টিভিটির সুবিধা রয়েছে। ফলে স্মার্টফোনের সঙ্গে বাইককে সংযুক্ত করে রাইডিং অভিজ্ঞতাকে আরও আধুনিক করা যাবে।
কাওয়াসাকি ইতিমধ্যেই KLX 230-এর বুকিং শুরু করে দিয়েছে তাদের সমস্ত ডিলারশিপে এবং খুব শিগগিরই এর ডেলিভারি শুরু হবে। সব মিলিয়ে নতুন KLX 230 দামে সাশ্রয়ী, ফিচারে আধুনিক এবং অফ-রোড পারফরম্যান্সে শক্তিশালী। স্থানীয় উৎপাদনের ফলে এটি এখন ভারতীয় বাজারে কেবল আরও বেশি মানুষের নাগালে এল না, বরং সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিল হিরো এক্সপালস 210-এর মতো প্রতিদ্বন্দ্বীকে। অ্যাডভেঞ্চারপ্রেমী বাইকারদের কাছে ২০২৬ সালের KLX 230 হতে চলেছে এক নতুন নির্ভরযোগ্য সঙ্গী, যা শহর থেকে পাহাড়ি পথ—সবখানেই সমান পারদর্শী।

