Maruti, Tata, Hyundai, Mahindra: “জিএসটি কমছে, সস্তা হতে পারে মারুতি ইকো”

নিউজ ডেস্ক: দীপাবলির আগে মধ্যবিত্ত গাড়িপ্রেমীদের জন্য সুখবর নিয়ে আসতে পারে কেন্দ্রীয় সরকার। বিশেষজ্ঞদের মতে, ছোট গাড়ির উপর জিএসটি কর হ্রাসের প্রস্তাব কার্যকর হলে বাজারে নতুন করে সাড়া পড়তে পারে। বর্তমানে ১২০০ সিসির কম ইঞ্জিন এবং ৪ মিটারের কম দৈর্ঘ্যের গাড়ির ক্ষেত্রে ২৮% জিএসটি এবং ১% সেস আরোপিত হয়। কিন্তু প্রস্তাবিত পরিবর্তন কার্যকর হলে এই কর কমে হতে পারে ১৮% জিএসটি এবং ১% সেস। ফলে ক্রেতাদের জন্য বড় ধরনের আর্থিক সাশ্রয়ের সুযোগ তৈরি হবে।

মারুতি ইকোর বেস ভেরিয়েন্টের বর্তমান এক্স-শোরুম মূল্য প্রায় ৫,৬৯,৫০০ টাকা। জিএসটি কমলে এই দামের প্রায় ৫৬,৯৫০ টাকা পর্যন্ত হ্রাস হতে পারে। অর্থাৎ ক্রেতারা আরও সাশ্রয়ে গাড়ি কেনার সুযোগ পাবেন। শুধুমাত্র বেস ভেরিয়েন্টই নয়, টপ ভেরিয়েন্টের ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য ছাড় পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। দীপাবলির সময় যখন মানুষ নতুন গাড়ি কেনার পরিকল্পনা করে, তখন সরকারের এই সিদ্ধান্ত বিক্রির বাজারে এক নতুন প্রাণসঞ্চার ঘটাতে পারে বলে মনে করছেন শিল্প বিশেষজ্ঞরা।

Whatsapp Join

বর্তমানে মারুতি ইকো ছোট ও মাঝারি পরিবারের মধ্যে অন্যতম জনপ্রিয় পছন্দ। তার সাশ্রয়ী দাম, বহুমুখী ব্যবহার এবং তুলনামূলকভাবে কম রক্ষণাবেক্ষণ খরচের কারণে এটি শহর ও গ্রাম – দুই বাজারেই সমানভাবে চাহিদাসম্পন্ন। এখন যদি কর ছাড় কার্যকর হয়, তাহলে মধ্যবিত্ত পরিবার, ছোট ব্যবসায়ী ও বাণিজ্যিক ব্যবহারের জন্য গাড়ি কেনা আরও সহজ হবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ছোট গাড়ির বাজারে এর ফলে চাহিদা বাড়বে উল্লেখযোগ্যভাবে এবং মারুতি ইকো সেই বাজারের অন্যতম প্রধান প্রতিযোগী হিসেবে আরও শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করতে পারবে।

মারুতি ইকোর জনপ্রিয়তার পেছনে অন্যতম বড় কারণ এর ইঞ্জিন পারফরম্যান্স ও মাইলেজ। এই গাড়িটি বর্তমানে দুটি পাওয়ারট্রেন বিকল্পে পাওয়া যায় – পেট্রোল ও সিএনজি। এর ১.২ লিটার কে-সিরিজ পেট্রোল ইঞ্জিন ৮০.৭৬ পিএস শক্তি এবং ১০৪.৪ এনএম টর্ক উৎপন্ন করে, যা শহরের ব্যস্ত রাস্তায় বা দীর্ঘ দূরত্বের যাত্রায় যথেষ্ট শক্তিশালী পারফরম্যান্স প্রদান করে। ট্যুর ভেরিয়েন্টের মাইলেজ প্রায় ২০.২ কিমি প্রতি লিটার এবং প্যাসেঞ্জার ভেরিয়েন্ট প্রায় ১৯.৭ কিমি প্রতি লিটার মাইলেজ দেয়। অন্যদিকে, সিএনজি সংস্করণ আরও সাশ্রয়ী। এটি ৭১.৬৫ পিএস শক্তি এবং ৯৫ এনএম টর্ক উৎপন্ন করে। ট্যুর ভেরিয়েন্টে মাইলেজ প্রায় ২৭.০৫ কিমি প্রতি কেজি এবং প্যাসেঞ্জার ভেরিয়েন্টে ২৬.৭৮ কিমি প্রতি কেজি। জ্বালানি সাশ্রয়ের ক্ষেত্রে সিএনজি ভেরিয়েন্ট বর্তমানে বাজারে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে, বিশেষ করে যারা দৈনন্দিন যাতায়াত ও বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহার করেন তাদের জন্য।

এছাড়া, সাম্প্রতিক আপডেটে মারুতি ইকো আরও আধুনিক নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্যে সজ্জিত হয়েছে। এখন গাড়িটিতে রয়েছে রিভার্স পার্কিং সেন্সর, যা সংকীর্ণ জায়গায় গাড়ি পার্ক করা অনেক সহজ করে দেয়। ইঞ্জিন ইমোবিলাইজার সিস্টেম গাড়ির নিরাপত্তা আরও বাড়িয়ে তোলে, চুরি বা অননুমোদিত স্টার্ট প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি, চাইল্ড লক, সিটবেল্ট রিমাইন্ডার, এবিএস (অ্যান্টি-লক ব্রেকিং সিস্টেম) সহ ইবিডি (ইলেকট্রনিক ব্রেকফোর্স ডিস্ট্রিবিউশন) যুক্ত করা হয়েছে। টপ ট্রিম ভেরিয়েন্টে আরও উন্নত সুরক্ষার জন্য এখন ৬টি এয়ারব্যাগ যুক্ত হয়েছে, যা যাত্রীদের নিরাপত্তা বাড়িয়ে তুলেছে।

অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জাতেও আনা হয়েছে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন। নতুন স্টিয়ারিং হুইল ও ডিজিটাল ইন্সট্রুমেন্ট ক্লাস্টার ডিজাইন এখন এস-প্রেসো এবং সেলেরিওর মডেলের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যা ড্রাইভিংয়ের সময় একটি আধুনিক অনুভূতি দেয়। তাছাড়া, আগের স্লাইডিং এসি কন্ট্রোল বদলে এখন রোটারি ডায়াল ব্যবহার করা হয়েছে, যা ব্যবহারে আরও সহজ ও আরামদায়ক। ফলে যারা পারিবারিক প্রয়োজন, বাণিজ্যিক ব্যবহার বা দীর্ঘ যাত্রার জন্য সাশ্রয়ী কিন্তু আধুনিক সুবিধাসম্পন্ন একটি গাড়ি খুঁজছেন, তাদের জন্য মারুতি ইকো একটি চমৎকার বিকল্প হয়ে উঠছে।

শিল্প বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রস্তাবিত জিএসটি হ্রাস কেবল দাম কমাবে না, বরং ছোট গাড়ির বাজারে এক নতুন পরিবর্তন আনবে। বিশেষ করে মারুতি ইকোর মতো বহুমুখী ব্যবহারের গাড়ির ক্ষেত্রে এর প্রভাব আরও বেশি দৃশ্যমান হবে। বর্তমানে ছোট গাড়ির বাজারে প্রতিযোগিতা তীব্র, কারণ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের একাধিক মডেল একে অপরকে টেক্কা দিচ্ছে। কিন্তু কম দামে উচ্চ মাইলেজ, সিএনজি বিকল্প, উন্নত নিরাপত্তা এবং ব্যবহারিক ডিজাইন মারুতি ইকোকে তার প্রতিযোগীদের তুলনায় আলাদা সুবিধা দেবে।

বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, এই কর ছাড় কার্যকর হলে উৎসবের মৌসুমে বিক্রিতে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখা যেতে পারে। মধ্যবিত্ত পরিবারের পাশাপাশি ছোট ব্যবসায়ী, ডেলিভারি সার্ভিস, স্কুল ভ্যান, কার্গো পরিবহন – সব ক্ষেত্রেই মারুতি ইকোর চাহিদা বাড়তে পারে। কারণ একইসঙ্গে এটি যাত্রী পরিবহন এবং পণ্য পরিবহনের জন্য ব্যবহারযোগ্য। বিশেষ

করে সিএনজি ভেরিয়েন্টের মাইলেজ বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে খরচ অনেকটা কমিয়ে দেবে, যা ছোট ব্যবসায়ীদের জন্য বিশাল সহায়ক হবে।

তবে শুধু জিএসটি হ্রাসই নয়, মারুতি ইকোর জনপ্রিয়তার পেছনে কোম্পানির ব্র্যান্ড ভ্যালু, সাশ্রয়ী রক্ষণাবেক্ষণ খরচ এবং সার্ভিস নেটওয়ার্কও বড় ভূমিকা পালন করে। ভারতের প্রতিটি প্রান্তে মারুতি সুজুকির বিস্তৃত সার্ভিস সেন্টার ও সহজলভ্য স্পেয়ার পার্টসের কারণে এই গাড়িটি অনেক বেশি ব্যবহারিক এবং সাশ্রয়ী হয়ে ওঠে। এমনকি ছোট শহর ও গ্রামীণ এলাকাতেও ইকোর সার্ভিসিং ও পার্টস পরিবর্তনের সুবিধা সহজেই পাওয়া যায়।

Telegram Join

এই সমস্ত কারণের জন্যই শিল্প বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দীপাবলির আগে জিএসটি হ্রাসের ফলে মারুতি ইকোর চাহিদা রেকর্ড সংখ্যায় বাড়তে পারে। ছোট গাড়ির ক্রেতাদের জন্য এটি একটি সুবর্ণ সুযোগ, কারণ কম খরচে একটি নিরাপদ, সাশ্রয়ী ও বহুমুখী গাড়ি কেনা যাবে। একদিকে যেমন মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য বাজেটের মধ্যে গাড়ি কেনা সহজ হবে, তেমনি অন্যদিকে বাণিজ্যিক ক্ষেত্রেও মারুতি ইকোর ব্যবহার আরও বাড়বে।

বর্তমানে ভারতের অটোমোবাইল বাজারে সাশ্রয়ী মূল্যের ছোট গাড়ির চাহিদা সবসময়ই বেশি। বিশেষ করে শহরের ট্র্যাফিক পরিস্থিতি, জ্বালানির বাড়তি খরচ এবং পারিবারিক প্রয়োজনের কারণে অনেকেই এমন একটি গাড়ি চান যা একইসঙ্গে আরামদায়ক, জ্বালানি সাশ্রয়ী এবং নিরাপদ। এই ক্ষেত্রে মারুতি ইকো তার বৈশিষ্ট্যের কারণে ক্রেতাদের প্রথম সারির পছন্দ হয়ে উঠেছে। যদি সরকারের প্রস্তাবিত কর ছাড় কার্যকর হয়, তাহলে মারুতি ইকো নিঃসন্দেহে ছোট গাড়ির বাজারে আরও বড় অংশীদারিত্ব অর্জন করতে সক্ষম হবে।

Leave a Comment

Join Our WhatsApp Group!