Motorola Edge 60 Fusion: মার্কেটে ধামাকা লঞ্চ, 400MP Camera With 8000mAh Battery

নিউজ ডেস্ক: আজকের দিনে স্মার্টফোন শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়, বরং আমাদের জীবনধারার প্রতিচ্ছবি। কাজের ক্ষেত্র, বিনোদন, সামাজিক যোগাযোগ, এমনকি ব্যক্তিত্বের প্রকাশ—সবকিছুতেই ফোনের ভূমিকা অপরিসীম। বাজারে প্রতিদিনই নতুন নতুন স্মার্টফোন আসছে, তবে কিছু ডিভাইস এমন থাকে যা প্রযুক্তিগত উৎকর্ষের পাশাপাশি নান্দনিক সৌন্দর্যের মাধ্যমে ব্যবহারকারীর মনে স্থায়ী ছাপ ফেলে। Motorola Edge 60 Fusion ঠিক সেই ধরনের একটি ফোন।

Whatsapp Join

এটি এমন এক স্মার্টফোন যা কর্মক্ষমতা, ক্যামেরা, ডিসপ্লে, ব্যাটারি, সফটওয়্যার সাপোর্ট, আর ডিজাইনের ক্ষেত্রে এক নতুন মাত্রা সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে যারা আধুনিক প্রযুক্তি ও স্টাইল একসঙ্গে খুঁজে থাকেন, তাদের জন্য এটি আদর্শ পছন্দ হতে পারে। এই লেখায় আমরা বিস্তারিতভাবে জানব ফোনটির নকশা, ডিসপ্লে, প্রসেসর, ক্যামেরা, ব্যাটারি, সফটওয়্যার সাপোর্ট এবং দাম নিয়ে।Motorola Edge 60 Fusion–এর ডিজাইন প্রথম দর্শনেই বোঝা যায় এটি প্রিমিয়াম সেগমেন্টে তৈরি। ফোনটি হাতে নিলেই এর সূক্ষ্ম কারিগরি ও আভিজাত্যের প্রকাশ ঘটে। এর পেছনের প্যানেলে বিশেষ ধরনের ফিনিশ ব্যবহার করা হয়েছে, যা আলোয় পড়লে ভিন্ন ভিন্ন ছায়ার প্রতিফলন ঘটায়। একে আরও সুন্দর করেছে Pantone দ্বারা নির্ধারিত তিনটি আলাদা রঙের অপশন—Slipstream, Amazonite, এবং Zephyr। প্রতিটি রঙই আধুনিকতার ছোঁয়া বহন করে, যা ব্যবহারকারীর ব্যক্তিত্বের সঙ্গে মানানসই।

ফোনটির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ এর ডিসপ্লে। Motorola Edge 60 Fusion–এ ব্যবহৃত হয়েছে ৬.৬৭ ইঞ্চির pOLED Quad-Curved ডিসপ্লে, যার রেজোলিউশন ২৭১২ x ১২২০ পিক্সেল। ডিসপ্লেটি চারদিক থেকে বাঁকানো হওয়ায় এটি হাতে ধরলে প্রিমিয়াম অনুভূতি দেয়। একইসঙ্গে এটি HDR10+ সমর্থন করে, যা ভিডিও ও ছবিকে আরও বাস্তবসম্মত ও উজ্জ্বল করে তোলে। সিনেমা দেখা বা গেম খেলার সময় কালার রেপ্রোডাকশন এবং কনট্রাস্ট এমনভাবে ফুটে ওঠে যে চোখ সরানো কঠিন হয়ে পড়ে।

ডিসপ্লেটির আরেকটি বড় বৈশিষ্ট্য হলো এর ১২০ হার্টজ রিফ্রেশ রেট। এর ফলে স্ক্রলিং, সোশ্যাল মিডিয়া ব্রাউজিং, বা গেম খেলার সময় মসৃণ অভিজ্ঞতা পাওয়া যায়। ফোনটির পিক ব্রাইটনেস ৪৫০০ নিটস পর্যন্ত যেতে পারে, যা তীব্র রোদেও স্পষ্ট দৃশ্যমানতা নিশ্চিত করে। ডিসপ্লেকে সুরক্ষিত রাখতে আছে Gorilla Glass 7i, যা দৈনন্দিন আঁচড় বা হালকা পড়ে যাওয়া থেকে ফোনকে বাঁচায়। পাশাপাশি ফোনটি IP68 এবং IP69 রেটেড হওয়ায় জল ও ধুলোর সমস্যা নিয়ে আলাদা করে চিন্তার কিছু নেই।
ফোনটির কর্মক্ষমতার দিকটিও কম চমকপ্রদ নয়। ভারতের বাজারে এটি চালিত হচ্ছে MediaTek Dimensity 7400 প্রসেসরে। এটি এমন এক প্রসেসর যা উচ্চ ক্ষমতার পাশাপাশি এনার্জি-এফিসিয়েন্ট। ফলে ভারী অ্যাপ বা গ্রাফিক্স-ইন্টেনসিভ গেম সহজেই চালানো যায়, আবার ফোন অতিরিক্ত গরম হয় না। মাল্টিটাস্কিং করতে গিয়ে কোনো ল্যাগ বা হ্যাং হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় নেই বললেই চলে।

Edge 60 Fusion–এর সঙ্গে দেওয়া হয়েছে দুটি ভ্যারিয়েন্ট—একটিতে ৮ জিবি র‌্যাম এবং অপরটিতে ১২ জিবি র‌্যাম। এর সঙ্গে রয়েছে ২৫৬ জিবি অভ্যন্তরীণ স্টোরেজ, যা অধিকাংশ ব্যবহারকারীর জন্য যথেষ্ট। বড় আকারের সিনেমা, ছবি, ডকুমেন্ট বা গেম সংরক্ষণের জন্য অতিরিক্ত মেমোরি কার্ডের প্রয়োজন হবে না। ফোনটি চলে Motorola–র নিজস্ব Hello UI–তে, যা Android 15–এর উপর ভিত্তি করে তৈরি। সফটওয়্যারটি হালকা, পরিষ্কার এবং বিজ্ঞাপনবিহীন, ফলে ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতা হয় সহজ ও স্বাচ্ছন্দ্যময়। কোম্পানি প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তিনটি বড় অ্যান্ড্রয়েড আপডেট এবং চার বছরের নিরাপত্তা আপডেট, যা দীর্ঘদিন ফোনটিকে নতুন রাখবে।ক্যামেরার প্রসঙ্গে আসা যাক। Motorola Edge 60 Fusion–এর পেছনে রয়েছে ডুয়াল ক্যামেরা সেটআপ, তবে সংখ্যায় কম হলেও মানের দিক থেকে এটি অনন্য। মূল ক্যামেরাটি ৪০০ মেগাপিক্সেলের Sony LYT-700C সেন্সর, যা OIS বা অপটিক্যাল ইমেজ স্ট্যাবিলাইজেশন সমর্থন করে। এত উচ্চ ক্ষমতার সেন্সর সাধারণত খুব কম ফোনেই দেখা যায়। এর মাধ্যমে কম আলোতেও স্পষ্ট ও বিস্তারিত ছবি তোলা সম্ভব। রাতের অন্ধকার হোক বা সূর্যাস্তের দৃশ্য, প্রতিটি ছবিতে সূক্ষ্মতা বজায় থাকে।

সঙ্গে রয়েছে ১৩ মেগাপিক্সেলের আল্ট্রা-ওয়াইড ক্যামেরা, যা প্রশস্ত অ্যাঙ্গেলের ছবি তোলে। এই ক্যামেরাটিই আবার ম্যাক্রো মোড সমর্থন করে, ফলে ক্ষুদ্র কোনো বস্তু বা ফুলের নকশা ধরা যায় নিখুঁতভাবে। সামনে সেলফি ও ভিডিও কলের জন্য রয়েছে ৩২ মেগাপিক্সেলের ফ্রন্ট ক্যামেরা, যা ৪কে ভিডিও রেকর্ড করতে সক্ষম। সেলফি হোক বা ভ্লগ রেকর্ডিং—সব ক্ষেত্রেই ক্যামেরাটি যথেষ্ট কার্যকর।

ব্যাটারির দিক থেকেও ফোনটি চমকে দেয়। এতে রয়েছে বিশাল ৮০০০ এমএএইচ ব্যাটারি, যা এক কথায় ‘পাওয়ারহাউস’। দৈনন্দিন ভারী ব্যবহারে, যেমন গেম খেলা, সিনেমা দেখা বা ইন্টারনেট ব্যবহার—তবুও একটি পুরো দিন সহজেই কেটে যায়। এমনকি মাঝারি ব্যবহারে দুই দিন পর্যন্ত ব্যাটারি টিকে যেতে পারে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ১২০ ওয়াট TurboPower ফাস্ট চার্জিং, যা অল্প সময়েই ফোনকে চার্জ করে ফেলে। সকালে অফিস যাওয়ার আগে কয়েক মিনিট চার্জ দিলেই দিনের বাকি সময় নিশ্চিন্তে ব্যবহার করা যায়।এবার দাম ও ভ্যারিয়েন্ট নিয়ে আলোচনা করা যাক। ভারতের বাজারে Motorola Edge 60 Fusion এসেছে দুটি ভ্যারিয়েন্টে। ৮ জিবি র‌্যাম ও ২৫৬ জিবি স্টোরেজ ভ্যারিয়েন্টটির দাম রাখা হয়েছে ₹২২,৯৯৯ এবং ১২ জিবি র‌্যাম ও ২৫৬ জিবি স্টোরেজ ভ্যারিয়েন্টটির দাম ₹২৪,৯৯৯। এই দামের মধ্যে যে ফিচার ও পারফরম্যান্স ব্যবহারকারী পাচ্ছেন, তা নিঃসন্দেহে এক অসাধারণ অফার। বাজারের অন্যান্য ব্র্যান্ডের তুলনায় এটি অনেক বেশি ‘ভ্যালু ফর মানি’।
সবকিছু মিলিয়ে Motorola Edge 60 Fusion হলো এমন এক স্মার্টফোন যা প্রযুক্তি, নকশা ও ব্যবহারযোগ্যতার এক অনন্য সমন্বয়। একদিকে এর ৬.৬৭ ইঞ্চির Quad-Curved HDR10+ ডিসপ্লে এবং প্রিমিয়াম ডিজাইন ব্যবহারকারীকে মুগ্ধ করে, অন্যদিকে Dimensity 7400 প্রসেসর ও শক্তিশালী ক্যামেরা সেটআপ একে করে তোলে পারফরম্যান্স-নির্ভর। বিশাল ব্যাটারি ও ১২০ ওয়াট চার্জিং এটিকে প্রতিদিনের নির্ভরযোগ্য সঙ্গী করে তোলে।

Telegram Join

Leave a Comment

Join Our WhatsApp Group!