Samsung Galaxy S24 Ultra: সেলফি হোক বা স্পেস জুম, গ্যালাক্সি S24 আলট্রার ক্যামেরা দিচ্ছে DSLR-কে টক্কর

নিউজ ডেস্ক: স্মার্টফোন মানেই আজকের দিনে শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়, বরং জীবনযাত্রার প্রতিটি স্তরে এক অপরিহার্য সঙ্গী। অফিসের কাজ থেকে সৃজনশীলতা, গেমিং থেকে ভ্লগিং—সব কিছুতেই স্মার্টফোন হয়ে উঠেছে নির্ভরযোগ্য হাতিয়ার। আর সেই বাজারে প্রিমিয়াম সেগমেন্টে যে ব্র্যান্ডটি সব সময়ই এক ধাপ এগিয়ে, সেটি হলো স্যামসাং। তাদের গ্যালাক্সি এস-সিরিজ বরাবরের মতোই প্রযুক্তি, নকশা ও উদ্ভাবনের মিশেলে নতুন মানদণ্ড তৈরি করেছে। ২০২৪ সালের ১৭ জানুয়ারি ভারতে লঞ্চ হওয়া Samsung Galaxy S24 Ultra 5G এখনো ২০২৫ সালের মাঝামাঝি এসে বাজারের শীর্ষে রাজত্ব করছে। এর অন্যতম কারণ হলো টাইটানিয়াম ফ্রেমের শক্তপোক্ত গঠন, অসাধারণ ডিসপ্লে, এস-পেনের নির্ভুলতা, প্রো-গ্রেড ক্যামেরা সিস্টেম এবং স্যামসাংয়ের নিজস্ব Galaxy AI সুবিধা, যা বছরের শেষ পর্যন্ত বিনামূল্যে ব্যবহার করা যাচ্ছে। ফলে ক্রিয়েটর, গেমার কিংবা কর্পোরেট এক্সিকিউটিভ—সবাইয়ের জন্যই এই ফোন এখন এক “নো ব্রেইনার” পছন্দ।

Telegram Join

ভারতের ব্যস্ত শহুরে জীবন, যেমন মুম্বইয়ের ট্র্যাফিক, কিংবা অফিস থেকে বাড়ি ফেরার পথে দ্রুত নোট নেওয়া—এস-পেন সেই অভিজ্ঞতাকে সহজতর করেছে। Circle to Search থেকে শুরু করে Note Assist—সবই এআই দ্বারা সমৃদ্ধ, ফলে প্রোডাক্টিভিটি বহুগুণ বেড়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে যারা ভিডিও এডিট করেন, তারা ৮কে ভিডিও এডিটিং সহজেই করতে পারবেন। আবার যারা ডিজাইনার বা শিক্ষার্থী, তাদের জন্য আইডিয়া স্কেচ করার মতো ফিচারও এই ফোনে রয়েছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, এটি শুধু একটি ফোন নয়, বরং ব্যবহারকারীর দৈনন্দিন জীবনের এক প্রযুক্তিগত সহচর।

ডিসপ্লের প্রসঙ্গে এলে স্যামসাং গ্যালাক্সি S24 আল্ট্রা একেবারেই অন্য মাত্রা তৈরি করেছে। ফোনটিতে রয়েছে বিশাল ৬.৮ ইঞ্চির ডায়নামিক LTPO AMOLED 2X ডিসপ্লে, যার রেজোলিউশন QHD+ (১৪৪০×৩১২০ পিক্সেল)। ১২০ হার্টজ অ্যাডাপটিভ রিফ্রেশ রেট ব্যবহারকারীদের দেবে দারুণ মসৃণ অভিজ্ঞতা। রঙের মানে রয়েছে ১০০% DCI-P3 কভারেজ এবং HDR10+ সাপোর্ট, যা ভিডিও বা সিনেমা দেখার সময় রঙের গভীরতা ও উজ্জ্বলতাকে এক নতুন স্তরে নিয়ে যায়। বিশেষ করে ভারতের প্রচণ্ড রোদে বাইরে দাঁড়িয়েও ফোনের স্ক্রিন স্পষ্ট দেখা যায়, কারণ এর পিক ব্রাইটনেস ২৬০০ নিটস পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। এর সঙ্গে গরিলা আর্মার কোটিং প্রতিফলন ৭৫% পর্যন্ত কমিয়ে দেয়, ফলে চোখের আরাম বজায় থাকে। বর্ডারগুলো এতটাই পাতলা যে পুরো স্ক্রিনটাই ব্যবহারকারীর সামনে একেবারে প্রায় বেজেল-লেস মনে হয়। এ কারণে IPL হাইলাইটস দেখা হোক বা সোশ্যাল মিডিয়ায় রিলস এডিট করা—সব ক্ষেত্রেই এই ডিসপ্লে অসাধারণ ভিজ্যুয়াল অভিজ্ঞতা দেয়।

ক্যামেরা সিস্টেমই এই ফোনের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ। পিছনে রয়েছে কোয়াড ক্যামেরা সেটআপ, যেখানে মূল আকর্ষণ হলো ২০০ মেগাপিক্সেলের ISOCELL HP2 সেন্সর। এর সঙ্গে রয়েছে অপটিক্যাল ইমেজ স্ট্যাবিলাইজেশন, ফলে কম আলোতেও ছবি হবে স্পষ্ট, ডিটেইলড ও কম নয়েজযুক্ত। পাশাপাশি আছে ১২ মেগাপিক্সেলের আল্ট্রা-ওয়াইড লেন্স, যা ১২০° ফিল্ড অফ ভিউ দিয়ে গ্রুপ ফটো কিংবা ল্যান্ডস্কেপ ফটোগ্রাফিতে একেবারে পারফেক্ট। এছাড়াও আছে ১০ মেগাপিক্সেলের ৩x টেলিফটো লেন্স এবং ৫০ মেগাপিক্সেলের ৫x পেরিস্কোপ টেলিফটো লেন্স, যেগুলো দিয়ে ১০০x স্পেস জুম পর্যন্ত করা যায়। দূরের দৃশ্য হোক বা কাছ থেকে পোর্ট্রেট শট—সব ক্ষেত্রেই এটি প্রো-লেভেল পারফর্মেন্স দেয়। সামনের দিকে রয়েছে ১২ মেগাপিক্সেলের ফ্রন্ট ক্যামেরা, যা ৪কে ভিডিও রেকর্ড করতে পারে এবং পোর্ট্রেট সেলফিকে করে আরও আকর্ষণীয়।

স্যামসাংয়ের Galaxy AI ফিচারগুলো ক্যামেরাকে করেছে আরও শক্তিশালী। Generative Edit দিয়ে অনায়াসে ছবির অনাকাঙ্ক্ষিত অংশ মুছে ফেলা যায়, Instant Slow-mo দিয়ে সাধারণ ভিডিওকেও সিনেমাটিক ধাঁচে রূপান্তর করা সম্ভব, আর Live Translate ফিচার কলের সময় তাৎক্ষণিক অনুবাদ করে যোগাযোগকে সহজ করে তোলে। দীপাবলির আতশবাজি হোক বা পাহাড়ি সফরের দৃশ্য—সব কিছুই এই ক্যামেরায় আরও জাদুকরী হয়ে ওঠে।

ব্যাটারির দিক থেকেও এটি একেবারে নির্ভরযোগ্য সঙ্গী। ফোনটিতে রয়েছে ৫০০০ mAh ব্যাটারি, যা ভারী ব্যবহারে প্রায় ১৪ ঘণ্টা টানা চালানো যায়, আর সাধারণ ব্যবহারে একদিনের বেশি টিকে যায়। এর অ্যাডাপটিভ ব্যাটারি ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম ব্যবহারকারীর অভ্যাস বুঝে চার্জ খরচ নিয়ন্ত্রণ করে, ফলে আয়ু বেড়ে যায়। ৪৫ ওয়াটের সুপার ফাস্ট চার্জিং মাত্র ৩০ মিনিটে ব্যাটারিকে ৬৫% পর্যন্ত চার্জ করতে পারে (যদিও চার্জার আলাদাভাবে কিনতে হয়)। পাশাপাশি রয়েছে ১৫ ওয়াট ওয়্যারলেস চার্জিং এবং ৪.৫ ওয়াট রিভার্স চার্জিং, যা দিয়ে অন্য ডিভাইস চার্জ করা যায়।

পারফর্মেন্সের দিক থেকে স্যামসাং গ্যালাক্সি S24 আল্ট্রা এখনো বাজারের অন্যতম সেরা। এর মধ্যে রয়েছে Snapdragon 8 Gen 3 for Galaxy চিপসেট, যা ৪nm প্রযুক্তিতে তৈরি এবং ১.৮ মিলিয়নের বেশি AnTuTu স্কোর করেছে। এর সঙ্গে রয়েছে Adreno 750 GPU, যা হেভি গেমস যেমন Genshin Impact বা Call of Duty মোবাইলকে ১২০ FPS পর্যন্ত মসৃণভাবে চালাতে সক্ষম। ১২GB LPDDR5X RAM এবং সর্বোচ্চ ১TB UFS 4.0 স্টোরেজ ব্যবহারকারীদের দেয় এক বিশাল গতি ও ধারণক্ষমতা। এছাড়াও ফোনের মধ্যে রয়েছে ৪০% বড় ভেপার চেম্বার, যা তাপ নিয়ন্ত্রণ করে এবং দীর্ঘ সময় ধরে গেমিং বা ভিডিও এডিটিংয়ের সময়ও ফোনকে ঠান্ডা রাখে।

ফোনটির সঙ্গে রয়েছে সর্বশেষ One UI 6.1.1 ভিত্তিক Android 14, যা ভবিষ্যতে ৭ বছরের OS আপডেট এবং সিকিউরিটি প্যাচ পাবে। এর ফলে দীর্ঘ সময় ধরে ফোনটি আপ-টু-ডেট থাকবে। ব্যবহারকারীরা এখানে পাবেন Galaxy AI-এর নানান ফিচার যেমন Note Assist, যা নোট নেওয়াকে আরও দ্রুত ও সংগঠিত করে তোলে।

লঞ্চের সময় ভারতে এই ফোনের দাম শুরু হয়েছিল ₹৭১,৯৯৯ (১২GB/২৫৬GB) থেকে। এছাড়াও ৫১২GB এবং ১TB ভ্যারিয়েন্ট যথাক্রমে ₹৭৯,৯৯৯ ও ₹৯১,৯৯৯ দামে পাওয়া যেত। তবে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে শুরু হওয়া Flipkart Big Billion Days সেলে ফোনটির দাম নেমে এসেছে একেবারে অবিশ্বাস্য স্তরে। এখন ১২GB/২৫৬GB ভ্যারিয়েন্ট মাত্র ₹৫৯,৯৯৯ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। এর সঙ্গে আছে SBI ও ICICI ব্যাংকের অফারে সর্বোচ্চ ₹১২,০০০ ছাড়, Bajaj Finserv ও HDFC-এর মাধ্যমে জিরো-ডাউন EMI সুবিধা (₹২,৫০০/মাস থেকে শুরু), এবং পুরনো ফোন এক্সচেঞ্জ করলে সর্বোচ্চ ₹৩০,০০০ পর্যন্ত বোনাস। এত বড় অফারের কারণে মাত্র প্রথম দুই দিনেই বিক্রি হয়েছে প্রায় ৫০,০০০ ইউনিট, যা সত্যিই এক রেকর্ড।

Whatsapp Join

Leave a Comment

Join Our WhatsApp Group!