নিউজ ডেস্ক – স্মার্টফোন বাজারে আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে ভিভো, তাদের নতুন প্রিমিয়াম স্মার্টফোন Vivo T4 Pro 5G লঞ্চ করার পর। ভিভোর T-সিরিজ সবসময়ই উচ্চ পারফরম্যান্স, আধুনিক ডিজাইন এবং ব্যবহারকারী-বান্ধব বৈশিষ্ট্যের জন্য জনপ্রিয়। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। T4 প্রো 5G এসেছে T4 সিরিজের ষষ্ঠ সদস্য হিসেবে, যেখানে ইতিমধ্যেই রয়েছে T4, T4x, T4R, T4 Lite এবং T4 Ultra। এই সিরিজের মধ্যে T4 Ultra শীর্ষে অবস্থান করলেও, T4 প্রো তার ঠিক নিচে স্থান করে নিয়েছে। মূল লক্ষ্য হলো এমন ব্যবহারকারীদের কাছে পৌঁছানো, যারা ফ্ল্যাগশিপ-মানের ফিচার চান, কিন্তু বাজেটের সীমা ৩০,০০০ টাকার মধ্যে রাখতে চান।
ভিভো T4 প্রো 5G বিশেষভাবে নজর কেড়েছে কারণ এটি সাশ্রয়ী মূল্যের মধ্যে দিয়েও উন্নত প্রযুক্তি এবং আধুনিক ডিজাইনের সংমিশ্রণ ঘটিয়েছে। পেরিস্কোপ টেলিফটো লেন্স, কার্ভড AMOLED ডিসপ্লে এবং শক্তিশালী পারফরম্যান্সের মতো প্রিমিয়াম ফিচার এতে যুক্ত করা হয়েছে, যা এই দামের শ্রেণিতে খুবই বিরল। ফলে, যারা উচ্চমানের পারফরম্যান্স এবং প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতা চান কিন্তু বাজেট সীমিত, তাদের জন্য এটি হতে পারে আদর্শ বিকল্প।
নতুন ভিভো T4 প্রো বাজারে এসেছে দুটি রঙে—নাইট্রো ব্লু এবং ব্লেজ গোল্ড। দামও ব্যবহারকারীর বাজেট অনুযায়ী তিনটি ভিন্ন ভ্যারিয়েন্টে নির্ধারণ করা হয়েছে। ৮ জিবি র্যাম + ১২৮ জিবি স্টোরেজ ভ্যারিয়েন্টের দাম ₹২৭,৯৯৯, ৮ জিবি র্যাম + ২৫৬ জিবি স্টোরেজ মডেলের দাম ₹২৯,৯৯৯, আর ১২ জিবি র্যাম + ২৫৬ জিবি স্টোরেজ ভ্যারিয়েন্টের দাম ₹৩১,৯৯৯। ফোনটির বিক্রি শুরু হবে ২৯ আগস্ট ২০২৫ থেকে এবং এটি পাওয়া যাবে ভিভোর অফিসিয়াল ওয়েবসাইট, ফ্লিপকার্ট এবং দেশের বিভিন্ন অফলাইন রিটেল স্টোর-এ।
ডিসপ্লের দিক থেকে ভিভো T4 প্রো 5G বাজারে প্রতিযোগিতার নতুন মানদণ্ড তৈরি করেছে। এতে রয়েছে ৬.৭৭-ইঞ্চি কার্ভড AMOLED স্ক্রিন, যার ফুল HD+ রেজোলিউশন এবং ১২০Hz রিফ্রেশ রেট অভিজ্ঞতাকে করে তুলেছে একেবারে মসৃণ। স্ক্রিনের উজ্জ্বলতা সর্বোচ্চ ৫,০০০ নিটস পর্যন্ত যেতে পারে, ফলে তীব্র রোদেও স্পষ্ট দৃশ্যমানতা নিশ্চিত হয়। ডিসপ্লেটি HDR10+ সাপোর্ট করে এবং চোখের আরামের জন্য ২,১৬০Hz PWM ডিমিং প্রযুক্তি যুক্ত করা হয়েছে। স্ক্রিন প্রটেকশনের জন্য ব্যবহার করা হয়েছে উন্নত ডায়মন্ড শিল্ড গ্লাস, যা ফোনটিকে অতিরিক্ত সুরক্ষা দেয়।
হার্ডওয়্যারের ক্ষেত্রে ভিভো T4 প্রো 5G যথেষ্ট শক্তিশালী। এতে ব্যবহার করা হয়েছে Qualcomm Snapdragon 7 Gen 4 চিপসেট, যা মধ্যম দামের মধ্যে প্রিমিয়াম পারফরম্যান্স দিতে সক্ষম। ব্যবহারকারীর প্রয়োজন অনুযায়ী ৮ জিবি বা ১২ জিবি র্যাম এবং সর্বোচ্চ ২৫৬ জিবি স্টোরেজ ভ্যারিয়েন্ট পাওয়া যাবে। দীর্ঘ সময় গেম খেলা বা মাল্টিটাস্কিংয়ের সময় যাতে ফোন বেশি গরম না হয়, সেজন্য যুক্ত করা হয়েছে VC স্মার্ট কুলিং সিস্টেম।
সফটওয়্যারের ক্ষেত্রেও ভিভো T4 প্রো উন্নত অভিজ্ঞতা দেবে। এটি Android 15-এর ওপর ভিত্তি করে তৈরি Funtouch OS 15 নিয়ে আসে। ভিভো ঘোষণা করেছে যে ফোনটিতে চারটি বড় অ্যান্ড্রয়েড আপডেট এবং ছয় বছরের নিরাপত্তা আপডেট দেওয়া হবে। এছাড়া এতে বেশ কিছু AI টুলস রয়েছে, যেমন Circle to Search, Transcript Assist, Live Call Translation এবং Erase 2.0। এই ফিচারগুলো ব্যবহারকারীর দৈনন্দিন কাজকে আরও সহজ ও দ্রুত করে তুলবে।
ক্যামেরার দিক থেকে ভিভো T4 প্রো 5G বাজারে একেবারেই অনন্য। এর পেছনে রয়েছে ৫০-মেগাপিক্সেল প্রাইমারি সেন্সর সহ OIS (Optical Image Stabilization)। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ৫০-মেগাপিক্সেল ৩x পেরিস্কোপ টেলিফটো লেন্স, যেখানে OIS সাপোর্ট রয়েছে, ফলে জুম করে ছবিও স্পষ্ট এবং কম্পনহীন আসে। এর পাশাপাশি রয়েছে ২-মেগাপিক্সেল ডেপথ সেন্সর। সেলফি প্রেমীদের জন্য সামনে দেওয়া হয়েছে ৩২-মেগাপিক্সেল ফ্রন্ট ক্যামেরা, যা ৪K ভিডিও রেকর্ডিং সাপোর্ট করে।
ব্যাটারির দিক থেকেও ভিভো T4 প্রো 5G বেশ শক্তিশালী। ফোনটিতে রয়েছে বিশাল ৬,৫০০mAh ব্যাটারি, যা দীর্ঘ সময় ধরে ব্যবহার করা যায়। এর সঙ্গে রয়েছে ৯০W ফাস্ট ওয়্যার্ড চার্জিং, যা স্বল্প সময়ে ব্যাটারি দ্রুত চার্জ করতে সাহায্য করে। এত বড় ব্যাটারি থাকা সত্ত্বেও ফোনটির ডিজাইন যথেষ্ট স্লিম—মাত্র ৭.৫৩ মিমি পুরু এবং ওজন ১৯২ গ্রাম, ফলে এটি হাতে ধরা ও ব্যবহার করা বেশ আরামদায়ক।
অন্যান্য উল্লেখযোগ্য ফিচারের মধ্যে রয়েছে ইন-ডিসপ্লে ফিঙ্গারপ্রিন্ট স্ক্যানার, স্টেরিও স্পিকার, এবং IP68 ও IP69 রেটিং, যা ফোনটিকে ধুলা ও পানির থেকে সুরক্ষা দেয়। 5G কানেক্টিভিটি বিভিন্ন ব্যান্ড সাপোর্ট করে, ফলে ভবিষ্যতের নেটওয়ার্ক অভিজ্ঞতাও হবে নিরবচ্ছিন্ন ও দ্রুত।
ভিভো T4 প্রো 5G মূলত এমন ব্যবহারকারীদের কথা মাথায় রেখে তৈরি, যারা সাশ্রয়ী দামের মধ্যে ফ্ল্যাগশিপ ফিচার চান। এর কার্ভড AMOLED ডিসপ্লে, প্রিমিয়াম ক্যামেরা সেটআপ, দ্রুত চার্জিং, এবং AI-ভিত্তিক উন্নত ফিচার একে বাজারে অন্যান্য প্রতিযোগীদের থেকে আলাদা করেছে। বাজেটের মধ্যে প্রিমিয়াম স্মার্টফোন খুঁজছেন এমন ব্যবহারকারীদের জন্য এটি নিঃসন্দেহে অন্যতম সেরা বিকল্প হতে পারে।

